সোমবার, ৬ জুন, ২০১১

যারা লিনাক্সের প্রচারণা করছেন বা করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে

প্রথমত, লিনাক্সের প্রচারণা করতে হলে যে উইন্ডোজের বিপক্ষে গিয়েই করতে হবে তা না। কোন কিছুর ভক্ত হওয়া ভাল, তবে অন্ধ ভক্ত হওয়া ভাল না।

এক কাজ করুন, লিনাক্সের সুবিধা-অসুবিধাগুলো তুলে ধরুন। উইন্ডোজের সাথে লিনাক্সের তুলনা করার কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা যে উইন্ডোজ ব্যবহারকারী সে নিজেও জানে উইন্ডোজের সুবিধা-অসুবিধাগুলো কী কী।

আর পাইরেসির দোহাই দিয়ে উইন্ডোজে ব্যবহারকারীদের লিনাক্সে টেনে আনা বড্ড বোকামি। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের এতটুকু বলা যেতে পারে যে, সফটওয়্যার পাইরেসি করতে না চাইলে আপনি লিনাক্স ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে তাকে চোর চোর বলে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। কেউ যদি তার চাহিদা লিনাক্সে পূরণ করতে না পারে, তো আপনারই বা কী করার আছে?

ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন। এখন বেশির ভাগ ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার লিনাক্সে যেমন রান করে, তেমনি উইন্ডোজেও করে। তাই একজন উইন্ডোজ ব্যবহারকারীও সফটওয়্যার পাইরেসি মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারেন। একটু ভেঙে লিখতে হলে, লিব্রেঅফিস, গিম্প বা ইত্যাদি সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করার জন্য কম্পিউটারে লিনাক্স ইনস্টল করার কোন প্রয়োজন নেই। উইন্ডোজেও সফটওয়্যারগুলো রান করা সম্ভব। এখন যারা লিনাক্স হচ্ছে ওপেন সোর্স, লিনাক্সের সোর্স কোড মডিফাই করে নিজের মত সাজিয়ে নেওয়া যায় ইত্যাদি বলে বেড়ান তাদের কয়জন লিনাক্সের সোর্স কোড ডাউনলোড করে দেখেছেন? আর কয়জনই বা জানেন লিনাক্স থেকে কোন প্যাকেজ বা সফটওয়্যারের সোর্স কোড কিভাবে ডাউনলোড করতে হয়? তাই লিনাক্স যে ওপেন সোর্স শুধু এতটুকুই বলুন, তাই যথেষ্ট।

মাইক্রোসফট অফিসের সাথে লিব্রেঅফিস, ফটোশপের সাথে গিম্প কিংবা প্রফেশনাল মানের কম্পিউটার গেমের সাথে খেলনা কম্পিউটার গেমর তুলনা না করাই মনে হয় ভাল। ফটোশপের জন্য অনেক এ্যাকশন, ব্রাশ প্রভৃতি পাওয়া যায়। ফলে একটি কাজ অনেক সহজেই করা যায়। এখন যে প্রফেশনালি গ্রাফিক্সের কাজ করে তার গিম্প নিয়ে খেলা করার সময় নেই। হয় তাকে গিম্পের জন্য ঐ ধরণের এ্যাকশন, ব্রাশ ইত্যাদি এনে দিন, না হয় এই প্রসঙ্গে আলোচনা বন্ধ রাখুন। এখন যদি বলেন লিনাক্সে ওয়াইন দিয়ে ফটোশপ চালানো যায়, তাহলে আমি বলব উইন্ডোজ প্লাটফর্মের ফটোশপই যদি চালাতে হয় তবে তার জন্য লিনাক্সে শিফ্ট করার কোন প্রয়োজন আদৌ আছে কি?

লিনাক্সের ড্রাইভার সমর্থন খুবই ভাল তা আমি জানি। তবে যাদের প্রিন্টার বা স্ক্যানার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমর্থন করে না কেবল তারাই জানে ঐ প্রিন্টার বা স্ক্যানার চালাতে তাদের কত কষ্ট করতে হয়েছে। শুধু প্রিন্টার বা স্ক্যানারই না, এই রকম অনেক ডিভাইসই আছে যা লিনাক্সে চালাতে অনেকেরই অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। শুধু তাই না এমনও অনেকে ব্যবহারকারী আছেন যারা তাদের ডিভাইস আজও লিনাক্সে চালাতে পারেননি। মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করে দ্রুত কাজ করার জন্য। এখন এই কম্পিউটারই যদি কাজের গতি মন্থর করে দেয় তাহলেতো সমস্যা।

মাইক্রোসফট কর্পোরেশন যখন স্কাইপ লিমিটেড কিনে নেয় তখন অনেক লিনাক্স ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা হতাশার সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অথচ তাদের অনেকেই হয়ত লক্ষ্য করেননি যে, লিনাক্সের জন্য স্পাইপ ডেভেলপ করা হচ্ছে না অনেকদিন থেকেই। স্কাইপের সর্বশেষ স্ট্যাবল উইন্ডোজ ভার্সন হচ্ছে ৫.৩.০.১১৬ এবং ম্যাক ওএস এক্স ভার্সন হচ্ছে ৫.১.০.৯৬৮। অথচ লিনাক্স ভার্সন হচ্ছে ২.২.০.২৫। এই দিকে যারা পিজিন বা এমপ্যাথি নিয়ে লাফালাফি করেন তাদের উদ্দেশ্যে, পিজিন বা এমপ্যাথি দিয়ে ফাইল আদান-প্রদান করতে এখনও অনেক সমস্যা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফাইল আদান-প্রদান করা সম্ভব হয় না। আর ভয়েস চ্যাট প্রসঙ্গ না হয় বাদই দিলাম। তাই এই বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করে সমস্যাগুলো তাদের খুলে বলুন।

এখন আমি কেন লিনাক্স ব্যবহার করি এই ধরণের প্রশ্ন কেউ আমাকে করলে সেটির উত্তরে আমি প্রায়ই বলি, আই'ভ মাই ওন রিজনস। আমি লক্ষ্য করেছি, আমার এই উত্তরে অনেকেরই লিনাক্সের প্রতি কৌতুহল বেড়ে যায় এবং লিনাক্স ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। না, এটি কোন কৌশল না। অচেনাকে চেনা এবং অজানাকে জানা হচ্ছে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। অথচ উইন্ডোজের দুর্নাম করলে সেটির ফলাফল অবশ্যই উল্টো হত।

লিনাক্স যেমন সার্ভারে বহুল ব্যবহৃত, তেমনি ডেস্কটপে উইন্ডোজ বহুল ব্যবহৃত। এই সত্যটুকু লিনাক্স ব্যবহারকারীদের মেনে নেওয়া উচিত। তবে ভবিষ্যতে কোন অপারেটিং সিস্টেম রাজত্ব করবে এই ধরণের প্রশ্নের উত্তরে আমি সব সময়ই বলি, ওয়েল, টাইম'ল সে।

মনে রাখবেন, একচেটিয়া রাজত্ব কেউই কোন দিন করতে পারে না। দুর্বলের পতন হবেই। এখন এই দুর্বল অপারেটিং সিস্টেম যেমন উইন্ডোজ বা ম্যাক ওএস এক্স হতে পারে তেমনি লিনাক্সও হতে পারে। আর হ্যাঁ, ভবিষ্যতে লিনাক্সের চেয়ে উন্নত কার্নেল বা অপারেটিং সিস্টেমেরও দেখা মিলতে পারে। তখন সেটির জন্য লিনাক্সকেও জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।

অনেকেই দেখে থাকবেন ছোট বাচ্চাদের জোর করে কোন কিছু খাওয়ানোর ঠিক পর মুহুর্তেই ওরা বমি করে দেয়। ঠিক ঐ একই কারণে কাউকে জোর করে লিনাক্স ব্যবহার করতে বাধ্য করবেন না। কেননা সেক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

7 টি মন্তব্য:

SYeeF বলেছেন...

চমৎকার একটা পোস্ট লেখার জন্য অয়ন ভাই... ধন্যবাদ।
আসলে..বেশ কিছুদিন থেকে আমিও এব্যাপারে সচেতন। এখন কাউকে লিনাক্স সম্পর্কে বলতে গেলে শুধু এর গুন গুলোই বলি না...সাথে হালকা সমস্যার কথাও বলি। যেমন: ভয়েস-ভিডিও চ্যাট করার জন্য স্কাইপি ব্যবহার করতে হবে। বহুদিনে অভ্যস্থ সফটওয়্যার গুলা মিস করবেন..ইত্যাদি।
সব কথা হচ্ছে..আমি যে কারণে লিনাক্স ব্যবহার করি সেটা ভাল মত তুলে ধরি। লিনাক্সের গতি, ভাইরাস থেকে মুক্তি এবং সিকিউরিটি ইত্যাদি।

নিশাচর নাইম বলেছেন...

আসলেই উইন্ডোজ কে গালাগাল না করে লিনাক্স আর উইন্ডোজের সুবিধা-অসুবিধা গুলো তুলে ধরলেই মানুষ লিনাক্স ব্যবহারে আগ্রহী হবে।অসাধারন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

Mh বলেছেন...

বহু দিন পর অসাধারন একটা পোস্ট পড়ে খুবই ভাল লাগল। চমৎকার লিখা। আপনার জন্য শুভকামনা রইল...

রুপালি গিটার বলেছেন...

খুবই সুন্দর একটি পোস্ট। অসম্ভব সহনশীলতার পরিচয় পেলাম। আমি একজন হতভাগ্য উইন্ডোজ ব্যবহারকারী। খুব মনোকষ্টে আছি এই পাইরেটেড সফটও্যার নিয়ে। { আমারটা যদিও জেনুইন। পিসির প্যাকেজের সাথে দিয়েছিলো।} প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার পাইরেটেড সফট আমরা ইউজ করছি। খুব লজ্জা লাগে এই চুরি করতে। তাই, জোর চেষ্টা করছি উইন্ডোজ থেকে সরে আসতে। এখন উবুন্টু ডাউনলোড করছি। আর এই সম্পর্কে পড়ছি। সব কিছু ঠিক থাকলে, আমার আগামীকাল কম্পিউটার ওপেন করা হবে উবুন্টু দিয়ে। ভালো থাকবেন ভাইয়া। শুভ কামনা রইলো।

সাহা বলেছেন...

পড়লাম, অনেক ভাল লিখেছেন। কোন বিষয়েই এক্সট্রা সিরিয়াস হবার কোন
প্রয়োজন নেই। ফুলে মধু থাকলে ভ্রমর এমনিতেই আসবে।

শ্রাবন বলেছেন...

চমৎকার লেখা , এবং উপোযুক্ত যুক্তি যুক্ত :) । আমিও একমত পোষণ করছি ।

nitish haldar বলেছেন...

যাক আপনি অন্যদের থেকে আলাদা। নয়তো লিনাক্স ফ্যানবয়দের কিছু বুঝানো সত্যি অসম্ভব। আমি নিজে লিনাক্স ইউসার ২ বছর ধরে তবে মনে ভার্চুয়াল বক্স এ উইন্ডোজ রাখতে বাধ্য। আপনার উদার চেতনার জন্যে ধন্যবাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন