শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০০৯

উবুন্টু ব্যবহারের পূর্বে করণীয়

এই নিয়ে লেখার একদমই ইচ্ছে ছিলনা। তবে না লিখলেই যে নয়। আমি না হলে অন্য কেউ আজ হোক কাল হোক লিখবেই। কারণ লিখতে যে হবেই। তৃতীয় বিশ্বের এই ক্ষুদ্র দেশটা যে বিশ্বের কোন কিছুতে ভাল দিক থেকে এগিয়ে নেই। মন্দের রাজ্যের রাজা হয়ে সে বিশ্বের বুকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কারো কি কোন মাথাব্যথা আছে? আসলেই কি আছে? হ্যাঁ আছে। কিন্তু তার জন্য কোন কার্যকর পদক্ষেপ? না এটা নেই অবশ্যই। থাকলে আজ এই সবুজ-শ্যামলীতে ঘেরা চিরচেনা আপন বাংলাদেশটাকে এতটা পর মনে হতনা। আমি লেখক নই। আমি জানি না কি করে লেখা দিয়ে পাঠক হৃদয়কে আবেগপ্রবণ করতে হয়। যদি লেখক হতাম, তাহলে হয়ত আমার মৃত্যুর পর আমার লেখাগুলো স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নিজের মতন করে বলতেন। আমি যা বোঝাতে চাইনি সেটাও যা চেয়েছি তাও। শিরোনাম পড়ে যারা এই লেখা পড়তে এসেছেন, তারা হয়ত নিজের অজান্তেই আমার উপর ক্ষুব্দ হচ্ছেন। হবারই কথা, আমিও হতাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার যে আর কিছু করার ছিলনা। যে দেশটাকে জন্মের পর হতে মাতৃভূমি বলে মায়ের মতই ভালবেসে এসেছি সেই দেশকে নিয়ে নিজেরাই যখন খোচা দেই তখন যে খুব খারাপ লাগে। বাঙালি যে জাতি নিয়ে আমাদের গর্ব করার কথা ছিল সেই জাতিই কিনা আজ বেঈমানের প্রতীক। হয়ত কিছুদিন পর সাধারণজ্ঞানের বইয়ে সূর্যাস্তের দেশ এর সাথে যুক্ত হবে বেঈমানের দেশ বাংলাদেশ হিসেবে। এই স্বপ্ন নিয়েই কি লাখ লাখ বাঙালি নিজের প্রাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এই ভাষা, এই দেশ? প্রশ্নটা আপনাদের কাছেই? বিবেক কি বলে দেখুন। যদি উত্তর পান হ্যাঁ এটাই তাদের কাম্য ছিল। তাহলে এই লেখা আর পড়ার প্রয়োজন নেই। এখানেই এই পেজটি বন্ধ করে দিন। আর যদি উত্তর হয় না, অবশ্যই সেটা কাম্য ছিলনা। তবে আপনাকে এই মূর্খের লেখায় স্বাগতম।

পাইরেসি! শুদ্ধ বাংলায় চুরি। আপনি জানেন যে আপনি চোর নন। কিন্তু পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন, তখন নিজেকে কি বলবেন? সাধু? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে পাইরেসি বন্ধ করুন। টাকা দিয়ে কিনুন জেনুইন মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম এবং তাতে ব্যবহার করুন সব বৈধ সফটওয়্যার। যদি কেনার সামর্থ্য না থাকে তাহলে বিকল্প বেছে নিন। কেননা আপনার মত এরকম অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাইরেসি আমাদের এই সোনার বাংলাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণার সমুদ্র গড়ে তোলা ভাবসম্প্রসারণের মতই ব্যপক রূপ নিয়েছে। যা নিয়ে আসতে পারেনি কোন স্বর্ণের মেডেল। কেবলই উপহার হিসেবে দেশের নাম লেখিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাইরেসির দেশ হিসেবে। এসব জেনে যদি আপনার দেশের জন্য কিছু করতে ইচ্ছা করে। তাহলে সর্ব প্রথম একটি ওয়াদা করুন। আর সেটা হচ্ছে নিজেকে বদলাতে হবে সবার আগে। তাহলে দেশ নিজ হতেই বদলাবে। আমি কখনও বলছিনা। আপনি উইনডোজ ব্যবহার করবেন না। শুধু এটাই বলতে চাচ্ছি যদি টাকা দিয়ে না কিনতে পারেন তাহলে অন্তত পাইরেসি করবেন না দয়া করে। তাই এরপর যদি কেউ বিকল্প হিসেবে উবুন্টু লিনাক্সকে বেছে নেন। তারপর মূহুর্তে কিছু অজ্ঞতার কারণেই পিছু হটেন উবুন্টু থেকে। কেন? তার জন্য দরকার কিছু সচেতনতা। আর বেশি কিছু নয়। আমরা যারা নিজের টাকা খরচ করে উবুন্টু/লিনাক্স/ওপেনসোর্স প্রসারে ব্যস্ত তাদের লাভ কি বলতে পারেন? দেশের জন্য কিছু করা। উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করা মাত্র। আর বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে সেই যুদ্ধের সৈণিক আমরা। যেহেতু আমরা অন্য কোন বিষয়ে তেমন একটা কিছু জানি না। শুধু কম্পিউটার নিয়েই কিছুটা জ্ঞান আছে তাই এই খাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের এই প্রচেষ্টা। আর কিছু নয়।

উবুন্টু ব্যবহারের পূর্বে করণীয়
এখন আসি উবুন্টু ব্যবহারের পূর্বে কি কি করণীয়। ধরে নিচ্ছি আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এখন ভাল ভাবে জেনে নিন আমার ইন্টারনেট সংযোগের ধরণ কি এবং সেটা কি করে উবুন্টুতে কনফিগার করে? একটু কষ্ট করে গুগলে খুঁজলেই পাবেন। এখন দেখে নিন আপনার কম্পিউটারে কি কি হার্ডওয়্যার আপনি ব্যবহার করছেন (যেমন ধরুন, প্রিন্টার, ওয়েব ক্যাম, স্ক্যানার, টিভি কার্ড ইত্যাদি) এবং সেগুলোর ড্রাইভার উবুন্টুতে রয়েছে কিনা? এবার দেখুন আপনি কি কি সফটওয়্যার ব্যবহার করেন? অর্থাৎ কি কি ধরণের সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। সেগুলো বিকল্প উবুন্টুতে রয়েছে কিনা? যদি এতটুকু সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। তাহলে এবার আর একটু কষ্ট করে উবুন্টু ইনস্টলের একটা টিউটোরিয়াল জোগাড় করে ফেলুন। এবার কয়েকদিন উবুন্টু এর ব্যবহার প্রণালী অর্থাৎ কিভাবে উবুন্টু ব্যবহার করতে হয় তার শিখুন (টার্মিন্যাল, সাইন্যাপ্টিক এর ব্যবহার)। বিভিন্ন ফোরামেই এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন চাইলে টিউটোরিয়ালটা প্রিন্ট করে নিতে পারেন। নাহলে সেটা দেখে ধারণা নিয়ে উবুন্টু ইনস্টল শুরু করে দিন। উবুন্টু ইনস্টল শেষ হলে প্রথমে আপনার ইন্টারনেট সংযোগ কনফিগার করে নিন। এবার প্রয়োজনীয় ড্রাইভার, কোডেক/রেস্ট্রিকটেড এক্সট্রা, আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করে নিন। আশা রাখি এই পদ্ধতিগুলো পালন করলে আপনাদের উবুন্টু হতে আর দূরে সরে যেতে হবেনা। বা আমাদের আপনাদের কাছ থেকে নতুন করে ব্যবহারবান্ধব কথাটার সংজ্ঞা শিখতে হবেনা।

একটা কথা হয়ত আপনারা শুনে থাকবেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি আমরা এগিয়ে যাচ্ছি? আমাদের এখনই এগিয়ে যাবার পথে হাঁটা শুরু করতে হবে। নতুবা অনেক দেরি হয়ে যাবে তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকবেনা।
আমাদের এখনই এগিয়ে যাবার পথে হাঁটা শুরু করতে হবে। নতুবা অনেক দেরি হয়ে যাবে তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকবেনা।
কথাটির তাৎপর্যঃ
দেখুন আপনারা যদি এখনই ওপেনসোর্স ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরী করা বা আপনাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু যদি আজ থেকে কয়েকবছর পর আপনারা ওপেনসোর্স ব্যবহার শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাদের চাহিদা থাকবে অনেক কিন্তু সেই অনুযায়ী চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা আমাদের থাকবেনা। তাই তখন আর কিছুই করার থাকবেনা।

তাই আর দেরি নয়, এখনই এগিয়ে আসুন।

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০০৯

শাটার – স্ক্রীনসট নেবার এক দারুণ সফটওয়্যার

লিনাক্স যারা ব্যবহার করেন তারা অনেকেই হয়ত স্ক্রীনসট নেবার পর মাইক্রোসফট পেইন্ট খুব মিস করেন। কেননা মাইক্রোসফট পেইন্টে আপনি খুব সহজেই আপনার নেয়া স্ক্রীনসটে আঁকাআঁকি করতে পারেন। যেমনঃ কোন জিনিস হাইলাইট করতে রাউন্ড সেইপ ব্যবহার বা কোথাও কোন টেক্সট দেয়া। এসব ছোটখাট কাজের জন্য গিম্প হয়ত একটু ঝামেলারই মনে হবে। তবে এখন আর কোন ঝামেলা নয়। শাটার নামক স্ক্রীনসট নেবার দুর্দান্ত সফটওয়্যার দিয়ে এসব কাজ খুব অনায়াসেই করা সম্ভব।

শাটার – এর কিছু সুবিধা
  • পুরো পর্দার স্ক্রীনসট নেয়া।

  • কোন ওয়েবসাইট বা উইন্ডোর সম্পূর্ণ স্ক্রীনসট নেয়া।

  • নির্দিষ্ট কিছু অংশের স্ক্রীনসট নেয়া।

  • স্ক্রীনসট নেয়া ছবিতে রাউন্ড, স্কয়ার, লাইন, অপ্রয়োজনীয় লেখা সেন্সর, কোন টেক্সট বা ছবি যুক্ত করা ইত্যাদি সুবিধা পাবেন।
শুধুমাত্র উবুন্টু ব্যবহারকারী
নিচের সোর্স গুলো আপনার সোর্স লিষ্টে যুক্ত করুন। সোর্স লিস্ট যুক্ত করতে System → Administration → Software Sources চালু করুন। আপনার কম্পিউটারের রুট পাসওয়ার্ড দিন। Third-Party Software ট্যাবে ক্লিক করুন। সেখান থেকে Add এ ক্লিক করে নিচের সোর্সগুলো অ্যাড করুন (অবশ্যই একটা একটা করে)।

ইন্ট্রাপিড আইবেক্স ব্যবহারকারী
deb http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu intrepid main
deb-src http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu intrepid main
জন্টি জ্যাকালোপ ব্যবহারকারী
deb http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu jaunty main
deb-src http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu jaunty main

শুধুমাত্র লিনাক্স মিন্ট ৬ ব্যবহারকারী

সোর্স লিস্টে যুক্ত করতে টার্মিন্যালে লিখুনঃ
sudo gedit /etc/apt/sources.list
এবার আপনার রুট পাসওয়ার্ড দিন। এবার সোর্স লিস্টের একদম নিচে অর্থাৎ
## +++ Medibuntu (stable) +++
deb http://packages.medibuntu.org/ intrepid free non-free
এরপর নিচের লাইন দুটো বসিয়ে সেভ করুন।
deb http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu intrepid main
deb-src http://ppa.launchpad.net/shutter/ppa/ubuntu intrepid main
উবুন্টু বা লিনাক্স মিন্ট ব্যবহারকারী এবার নিচের কমান্ডগুলো একটা একটা করে টার্মিন্যালে লিখুনঃ
wget -q http://shutter-project.org/shutter-ppa.key -O- | sudo apt-key add -
sudo apt-get update
এবার শাটার ইনস্টল করতে টার্মিন্যালে লিখুনঃ
sudo apt-get install shutter
ব্যাস হয়ে গেল শাটার ইনস্টল।
উবুন্টুতে এখন এই শাটারের অবস্থান Applications → Accessories → Shutter - Screenshot Tool
লিনাক্স মিন্ট ৬ - এ এখন এই শাটারের অবস্থান Mint Menu → Accessories → Shutter - Screenshot Tool
অথবা টার্মিন্যালে নিচের কমান্ডটি লিখেও শাটার চালু করতে পারেনঃ
shutter

স্ক্রিনশটঃ শাটার

আর হ্যাঁ, কোন কিছু ইনস্টল না করেও কিন্তু আপনি স্ক্রীনসট নিতে পারেন। সেজন্য টার্মিন্যালে লিখুনঃ
gnome-panel-screenshot
আর নির্দিষ্ট সময় পর স্ক্রীনসট নিতে চাইলে নিচের ফরমেট অনুযায়ী টার্মিন্যালে লিখুনঃ
gnome-panel-screenshot --delay সময় (সেকেন্ড)
যেমন ১০ সেকেন্ড পর স্ক্রীনসট নিতে চাইলেঃ
gnome-panel-screenshot --delay 10

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০০৯

লিনাক্স মিন্টে ইউনিজয় কিবোর্ড লেআউট ব্যবহার করে বাংলা লিখুন

লিনাক্স মিন্টে ইউনিজয় কিবোর্ড লেআউট ব্যবহার করে বাংলা লিখতে প্রথমে স্কিম-এম১৭এন প্যাকেজটি ইনস্টল করতে হবে। সেজন্য নিচের কমান্ডটি টার্মিন্যালে লিখুনঃ
sudo apt-get install scim-m17n

এবার scim-m17n ইনস্টলের জন্য অনুমতি চাইলে আপনার রুট পাসওয়ার্ড দিয়ে অনুমতি দিন। ব্যস যা যা দরকার তা ইনস্টল হয়ে গেল।

এবার টার্মিন্যালে লিখুনঃ
sudo gedit /etc/X11/Xsession.d/90im-switch

এখন টেক্সট এডিটর চালু হবে। সেখানে নিচের কোডটি কপি-পেষ্ট করে বসিয়ে সেভ করে দিন।
export XMODIFIERS="@im=SCIM"
export GTK_IM_MODULE="scim"
export XIM_PROGRAM="scim -d"
export QT_IM_MODULE="scim"

এখন রি-স্টার্ট দিন। কাজ শেষ।

এবার কোথাও বাংলা লিখতে হলে Ctrl + space bar চাপুন। তাহলে নিচে ডানদিকে SCIM টুলাবার দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করে Bengali → bn-unijoy নিবার্চন করে যেকোন জায়গায় অনায়াসে বাংলা লিখতে পারবেন। আবার ইংরেজিতে লিখতে হলে ঐ একই পদ্ধতি Ctrl + space bar চাপুন।

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০০৯

ছবির রাউন্ড কর্নার

অনেক সময় আপনি হয়ত আপনার ছবির কর্নারগুলো রাউন্ড অর্থাৎ কোণ আকৃতির নয় গোলাকার করতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু করতে পারছেন না। এর জন্য আপনার এখন খুব বেশি কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। খুব সহজেই এর সমাধান করা যায়।

অনলাইন পদ্ধতি
প্রথমে নিচের সাইটে যান।
রাউন্ডপিক.কম
সেখানে browse বাটনে ক্লিক করে আপনার ছবির লোকেশন দেখিয়ে দিন। এবার round it! বাটনে ক্লিক করুন। ব্যাস হয়ে গেল এবার এখানের টুলবার ব্যবহার করে আপনি ইচ্ছে মত কর্ণার এর আকার ছোট-বড়, ব্যকগ্রাউন্ডের রং, সাইজ ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারবেন। চাইলে png ফরমেটেও ছবির কনভার্ট করতে পারেন।

গিম্প ব্যবহার করে
রথমে ছবিটি গিম্পে চালু করুন। এখন, Filters → Decor → Round Corners এ যান।
সেখানে Edge radius নির্বাচন করুন। অর্থাৎ ছবির কর্ণার কতটা রাউন্ড করবেন। আপনি চাইলে সেখান থেকে ব্যকগ্রাউন্ডে ছায়াও দিতে পারেন। এবার Ok ক্লিক করুন, হয়ে গেল আপনার ছবির রাউন্ড কর্নার।

চিত্রঃ মূল ছবি।


চিত্রঃ কর্ণার রাউন্ড করার পরের ছবি।

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০০৯

লিনাক্স মিন্ট কি?



প্রারম্ভিকা
লিনাক্স মিন্ট পার্সোনাল কম্পিউটারের একটি অপারেটিং সিস্টেম। যা উবুন্টুর উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়েছে। তবে এর ইউজার ইন্টারফেস উবুন্টু হতে কিছুটা ভিন্ন। এর সবচেয়ে মজার বিষয় হল এর লাইসেন্সিং পদ্ধতিও উবুন্টু হতে কিছুটা ভিন্ন। তাই এতে উবুন্টুর সকল রেষ্ট্রিকটেড এক্সট্রা দেয়া আছে। ফলে ইন্টারনেট হতে কিছু ডাউনলোড না করে স্বাচ্ছন্দেই এটা ব্যবহার করা যায়।

ডিফল্টভাবে দেয়া রেষ্ট্রিকটেড এক্সট্রার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে
  • এমপিথ্রি কোডেকঃ যার ফলে এমপিথ্রি গান শোনার জন্য নতুন করে কোডেক ইনস্টল করতে হয়না।

  • ডিভিডি সাপোর্টঃ এতে ডিফল্টভাবেই ডিভিডি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • ফ্ল্যাশ প্লেয়ারঃ এতে ফ্ল্যাশ প্লেয়ারও দেয়া আছে। ফলে ইউটিউবের মত সাইট অনায়াসেই ব্রাউজ করা যায়।

  • জাভা সাপোর্টঃ এতে আলাদাভাবে জাভা ডাউনলোড করার কোন প্রয়োজনই নেই। এটাও দেয়া থাকে ডিফল্টভাবেই। . . .
মজার/সুবিধার দিক
  • প্রথমেই বলেছি এতে উবুন্টুর সকল রেষ্ট্রিকটেড এক্সট্রা দেয়া আছে।

  • আনরার (unrar) ইনস্টল করা আছে, ফলে অনায়াসেই কোন ঝামেলা ছাড়াই রার (RAR) ফাইল এক্সট্রাক্ট করা যায়।

  • আকর্ষণীয় গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস/গুই (GUI)।

  • চমৎকার গ্রাফিকাল বুট লোডার।

  • আকর্ষণীয় সব থিম, ডেস্কটপ লে-আউট।

  • টার্মিন্যালে ফরচুন যা টার্মিন্যাল ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • লিনাক্স মিন্টকে অনেক বেশি আপন করে তুলতে এতে রয়েছে মিন্ট অ্যাসিস্টেন্ট, মিন্ট ব্যাকআপ, মিন্ট ইনস্টল, মিন্ট ন্যান্নি, মিন্ট আপডেট। সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে চমৎকার মিন্টের নিজস্ব Splash স্ক্রীন। আর সাথে উবুন্টুর সব সুবিধাতো রয়েছেই . . .
জনপ্রিয় যেসব সফটওয়্যার রয়েছে
  • মোজিলা ফায়ারফক্স

  • মোজিলা থান্ডারবার্ড

  • এমপ্লেয়ার এবং এর ফায়ারফক্স প্লাগিন

  • পিজিন মাল্টিপ্রোটোকোল ইন্টারনেট ম্যাসেঞ্জার

  • APTonCD

  • জি-পার্টেড

  • Gufw ফায়ারওয়াল . . .
আর এই জন্যই লিনাক্স মিন্টকে অনেকে বলে থাকেন নতুন ব্যবহারীদের জন্য সেরা লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। সাথে যাদের বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নেই তাদেরকেও অনেকে এই জন্য লিনাক্স মিন্ট রিকমান্ড করে থাকে।

কিছু টেকি বিবরণ
অপারেটিং সিস্টেম ফ্যামিলিঃ ডেবিয়ান গুণহ/লিনাক্স (উবুন্টু)
সোর্স মডেলঃ ফ্রী সফটওয়্যার/ওপেনসোর্স
সর্বশেষ স্ট্যাবল রিলিজঃ লিনাক্স মিন্ট ৭ (গ্লোরিয়া)/২০০৯.০৫.২৬-বর্তমান
ভাষা সমর্থনঃ মাল্টিল্যাঙ্গুয়েজ
আপডেট প্রক্রিয়াঃ এপিটি
প্যাকেজ ম্যানেজারঃ ডিপিকেজি
প্লাটফর্মঃ x86, x86-64
কার্নেলের ধরণঃ মনোলিথিক
ডিফল্ট ইউজার ইন্টারফেসঃ নোম
লাইসেন্সঃ প্রধানত জিএনইউ জিপিএল/আরও অন্যান্য

কোডনেম নামকরণ
লিনাক্স মিন্টের কোডনেম নামকরণে যা যা বিবেচনা করা হয়ঃ
  • স্ত্রীবাচক নাম।

  • লিনাক্স মিন্টের প্রতিটি রিলিজের কোডনেমের প্রথম অক্ষর ইংরেজি অক্ষরের ক্রমানুসারে নির্ধারণ করা হয়। যেমনঃ ১.০ কোডনেম Ada, ২.০ Barbara, ৩.০ Cassandra ইত্যাদি।

  • শব্দের শেষের অক্ষর ইংরেজি অক্ষর এ (a) দিয়ে শেষ করা। যেমনঃ Ada, Bea, Bianca, Celena, Daryna, Elyssa, Felicia ইত্যাদি।
রিলিজ ধরণ
২০০৬ সালে হতে লিনাক্স মিন্ট ডেভেলপ করা শুরু হয়। পূর্বে লিনাক্স মিন্ট কোন রিলিজ সাইকেল মেনে চলত না। তবে লিনাক্স মিন্ট ৫ এলিস্যা - এর পর থেকে লিনাক্স মিন্ট আজীবন উবুন্টুর রিলিজ সাইকেল (৬ মাস পর পর) মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লিনাক্স মিন্ট তাদের পরবর্তী রিলিজ (কোড নেম, হেলেনা) উবুন্টু কার্মিক কোয়ালার উপর ভিত্তি করে নভেম্বর ২০০৯ এ রিলিজ দেবার ঘোষণা দিয়েছে। লিনাক্স মিন্টের সকল রিলিজ দেখুন এই লিংক - এ।

উল্লেখ্য লিনাক্স মিন্ট নোম ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট ছাড়াও কেডিই, এক্সএফসিই, ফ্লাক্সবক্স ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টেও রিলিজ হয়ে থাকে।

জেনে রাখুন
  • লিনাক্স মিন্ট মেইন এডিশন = উবুন্টু ৩২ বিট ডেস্কটপ এডিশন (নোম ডিই)

  • লিনাক্স মিন্ট ইউনিভার্সাল এডিশন = উবুন্টু ৩২ বিট ডেস্কটপ এডিশন (নোম ডিই)

  • লিনাক্স মিন্ট এক্স৬৪ এডিশন = উবুন্টু ৬৪ বিট ডেস্কটপ এডিশন (নোম ডিই)

  • লিনাক্স মিন্ট কেডিই সিই = কুবুন্টু ৩২ বিট ডেস্কটপ এডিশন (কেডিই)

  • লিনাক্স মিন্ট এক্সএফসিই সিই= জুবুন্টু ৩২ বিট ডেস্কটপ এডিশন (এক্সএফসিই ডিই)
ডাউনলোড
নোট
  • লিনাক্স মিন্ট ইউনিভার্সল এডিশনে সম্পূর্ণ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক দেয়া থাকে এবং কোন কোডেক দেয়া থাকেনা। যেসব দেশে বাণিজ্যিক কোডেকসহ লিনাক্স মিন্ট বিতরণ আইনত বৈধ নয়, সেসব দেশের জন্য এই ইউনিভার্সাল এডিশন তৈরী করা হয়।

  • ডিই/DE = ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট/Desktop Environment

  • সিই/CE = কমিউনিটি এডিশন/Community Edition
সর্বশেষ আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৯